Mind
প্রশিক্ষণের জন্য বাংলায় নোট লিখতে বসে দেখি, গন্ধের কথা মুখে যত সহজে বলি, কাগজে ততই অস্পষ্ট। লিখেছি ফলের গন্ধ একটু বদলাবে। কতটা বদলাবে, কীসের মতো, আর কখন সেটা স্বাভাবিক নয়? নতুন ছেলেটা এই প্রশ্নগুলো করলে আমি নমুনার কাছে নিয়ে যাই, বই তো কাউকে নিয়ে যেতে পারবে না। তাই ভাবছি প্রতিটি বর্ণনার পাশে কোন মাপ আর কোন রেকর্ড দেখতে হবে সেটাও রাখি। শুধু আমার নাকের অভিজ্ঞতা দিয়ে কাউকে নিশ্চিত হতে শেখানো ঠিক হবে না। দুটো পাতা লিখে আবার প্রথম পাতায় ফিরেছি। স্ত্রী বলল আজ নতুন পরীক্ষা নেই? বললাম আছে, এইবার দেখা হচ্ছে নিজের জানা জিনিস অন্যকে বোঝাতে পারি কি না।
Body
কয়ারের মহড়ায় প্রথম গানটা গাইতে গলা খুলছিল না, মনে হচ্ছিল নিজের আওয়াজ নিজের কানেই আটকে যাচ্ছে। একটু জল খেয়ে বসে শুনলাম, তারপর আবার যোগ দিলাম। এবার বুকের ভেতর সেই পরিচিত কম্পনটা পেলাম, পাশে অন্যদের গলা থাকলে নিজের শ্বাসও যেন ঠিক জায়গায় পড়ে। দাঁড়িয়ে থাকতে ডান হাঁটু টানছিল বলে শেষটা বসেই গেয়েছি। আগে চারদিকে তাকিয়েছিলাম অবশ্য, কে কী ভাবল সেই পুরোনো বোকামি এখনও যায়নি। বাড়ি ফেরার পথে নাকটা পরিষ্কার লাগছিল, রাস্তার ফলের দোকানের পাকা গন্ধও পেলাম। স্ত্রী বলল আজ বেশ জোরে গেয়েছ। আমি বললাম, বাড়ির দরজা পর্যন্ত শুনেছ নাকি? শরীর ক্লান্ত ছিল, কিন্তু গলা নিয়ে আর কোনও অভিযোগ ছিল না।
Emotion
ছোট ছেলে আজ আমার একটা কেনাকাটার হিসাব জানতে চাইল, আর আমি এমনভাবে উত্তর দিলাম যেন আমাকে জেরা করা হচ্ছে। ছেলেটা শুধু জানতে চেয়েছিল যন্ত্রটা এখনই দরকার কি না। পরে লজ্জা লাগল, কারণ একই প্রশ্ন স্ত্রী করলে আমি বলতাম আবার শুরু হয়েছে, আর ছেলে করল বলে বয়সের অসম্মান খুঁজছিলাম। ওর কাছে গিয়ে বললাম মেজাজটা অকারণে চড়িয়েছি। সে বলল বুঝেছি, তারপর নিজের পড়ায় ফিরে গেল। আমি আরও একটু কথা চাইছিলাম, ক্ষমা চাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সব আগের মতো হবে এই আশা। রাতে প্রার্থনার সময় ঘটনাটা মনে পড়ল। মন খারাপ ছিল, তবে ছেলেটার প্রশ্নে যে যত্নও ছিল সেটা তখন বুঝতে পারছিলাম।