Player টিপসই
Body
অফিস থেকে ফেরার পর আজ ঘাড়ের পেছনে টান ছিল। পুরোনো বালাম বই নামাতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ মাথা উঁচু করে থাকতে হয়েছে। বাসায় চেয়ারে বসে আবার খাতা খুলতে যাচ্ছিলাম, তার আগে জামা বদলে বারান্দায় দাঁড়ালাম। চোখে ঠান্ডা পানি দেওয়ায় জ্বালাটা কমেছে। নিচে ছেলেরা খেলছিল, দূরে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগল। ঘরের বাতাসে সেলাইয়ের কাপড়ের গন্ধ। চা আসার পর বসেছি, কিন্তু খাতা সঙ্গে সঙ্গে খুলি নাই। কাপের গরম হাতের তালুতে লাগছিল। শরীরের এই সামান্য আরামগুলো লিখে রাখার অভ্যাস নেই। সাধারণত সমস্যা হলেই শুধু লেখা হয়। আজ টান ছিল, পরে কমেছে, এটুকুও নথিভুক্ত থাক।
Emotion
মেয়ে অঙ্কের একটা সমাধান দেখাল, আমার বলা নিয়মে করেনি। প্রথমে মনে হল মাঝখানে ধাপ বাদ দিয়েছে। পরে ধীরে বুঝিয়ে দিল কীভাবে করেছে। হিসাব ঠিক। আমি আরেকবার মিলিয়ে বললাম ঠিক আছে। সে বলল, শুধু ঠিক আছে বললে হবে না, এবার আমার পদ্ধতিও মানতে হবে। মুখের কথা শুনে হাসি পেল। ছোটবেলায় প্রতিটি লাইন লিখে আমাকে দেখাত, এখন আমাকে বোঝাচ্ছে। এতে শান্তি আছে। ওর পরীক্ষার কথা ভাবলে যে চাপ হয়, আজ কিছুক্ষণ ছিল না। খাতা ফেরত দেওয়ার পরও মেয়েটা টেবিলে বসে ছিল। আমি আর নতুন প্রশ্ন দিইনি। কিছুক্ষণ স্কুলের অন্য কথা শুনেছি, সব নাম চিনি না।
Mind
বারান্দার লেবুগাছটা একদিকে হেলে যাচ্ছে। ভাবলাম টব ঘুরিয়ে দিলেই হবে, স্ত্রী বললেন আগে দেখুন রোদ কোন সময় কোথায় পড়ে। অফিসের দিনে সকালটুকুই দেখি, বাকি সময়ের ধারণা নেই। ছুটির দিনে কয়েকবার দেখলাম, পাশের দেয়ালের ছায়া দুপুরের আগেই চলে আসে। টবটা একটু সরানো যায়, তবে কাপড় শুকানোর জায়গা কমবে। বড় কোনো ব্যাপার নয়, তবু না মেপে সরালে আবার আগের জায়গায় নিতে হবে। আজ মেঝেতে একটি দাগ দিয়ে রেখেছি, সেখানে রাখলে দরজা খোলায় বাধা হয় না। ছেলে বলছে গাছেরও অফিসের ফাইলের মতো তদন্ত হচ্ছে। সে পানি দিলে তদন্তের একটি অংশ কমত।