Player মাপজোখ
Emotion
ছেলে ফোন করে বলল নিজের রান্না করা খাবার বন্ধুদের খাইয়েছে, সবাই আবার করতে বলেছে। শুনে খুব ভালো লাগল। তারপর আমি কী দিয়ে বানিয়েছে, কতক্ষণ রেখেছে, ফ্রিজে বাকি খাবার আছে কি না, এসব জিজ্ঞেস করতে লাগলাম। ও হেসে বলল মা, পরীক্ষা দিচ্ছি না। একটু খারাপ লাগল, কারণ আমি আগ্রহ নিয়েই শুনছিলাম। পরে বুঝলাম আনন্দের খবরটা নেওয়ার আগেই যাচাই শুরু করেছি। তবু পুরো কথাটা নিয়ে মন খারাপ করে বসে থাকিনি। ও ছবি পাঠিয়েছে, স্বামীকে দেখিয়েছি, বোনকেও। ছেলে দূরে নিজের একটা জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে, এতে গর্ব হচ্ছে। শুধু সব খবরের ভেতরে আমার করার মতো একটা কাজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
Body
বাজারের সাইটে দাঁড়িয়ে পুরোনো নকশার ছোট লেখা পড়তে গিয়ে বারবার চশমা বদলাতে হচ্ছিল। মাথার ওপর রোদ, কাগজে আলো পড়ে চোখ আরও কুঁচকে আসছিল। ছায়ায় সরে বসে পড়ার পরে বেশ সুবিধা হল, কিন্তু এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার জন্য ডান হাঁটুতে টানটা তখন টের পেলাম। ফেরার রিকশায় পা একটু সোজা করে রাখলাম। বাড়ি এসে জুতো খুলে পা ধুয়ে বসতেই মেঝেটা ঠান্ডা লাগল, ভালো ঠান্ডা। স্বামী চা দিয়ে গেল। কাপটা ধরার সময় বুঝলাম হাতও ক্লান্ত, শুধু চোখ আর হাঁটু নয়। সন্ধ্যায় ছাদের গাছে জল দেওয়ার কাজটা ও করল, আমি বারান্দাতেই বসে রইলাম। উঠতে পারছিলাম না তা নয়, উঠতে ইচ্ছে করছিল না।
Mind
বাড়ির ওপরতলার সিঁড়ির নীচে তাক বাড়ানো যায় কি না ভাবছি। মাপ নিয়ে কাগজে আঁকার পরে সব ঠিক দেখাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে বালতি নিয়ে ঘুরতে গেলে কোণায় আটকে যাবে। স্বামী প্রথমেই সেটা বলেছিল, আমি তখন তাকের গভীরতা বোঝাচ্ছিলাম। কাগজে মানুষ চলাফেরা করে না বলেই বোধহয় নকশা এত সহজে পরিষ্কার দেখায়। এবার পুরোনো একটা বাক্স রেখে পথটা পরীক্ষা করেছি। তাক ছোট হবে, তাতে জিনিস কম ধরবে, কিন্তু প্রতি বার বালতি তুলে পাশ কাটাতে হবে না। এখনও কাঠের মিস্ত্রিকে বলিনি। আগে ঠিক করি সত্যিই নতুন তাক দরকার, নাকি বহুদিনের অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরালেই হয়।